এশিয়ার দক্ষিণে ওশেনিয়া অঞ্চলের দ্বীপ-মহাদেশ অস্ট্রেলিয়া আর দ্বীপরাষ্ট্র নিউজিল্যান্ড এখন অভিবাসন প্রত্যাশীদের স্বর্গ হয়ে উঠেছে। শরীর জুড়ানো আলো-হাওয়া আর হাজারো দ্বীপের পরতে পরতে ছড়িয়ে থাকা অবারিত প্রকৃতি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাদেশ অস্ট্রেলিয়া ও তাসমান সাগরের দ্বীপ নিউজিল্যান্ডকে যেমন অতুলনীয় রূপের অধিকারী করে তুলেছে, তেমনি সামাজিক নিরাপত্তা আর উন্নত জীবনমান এই দুই দেশকে বসিয়ে দিয়েছে অভিবাসন আকর্ষণের কেন্দ্রে।
তাই ৫০ হাজার বছর ধরে চলে আসা অভিবাসনের ইতিহাস নতুন মোড় নিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর গ্রেট বেরিয়ার রিফ এর দেশ অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় অধ্যুষিত দেশ নিউজিল্যান্ডে।
ভারত মহাসাগর, তিমুর, আরাফুরা, তাসমান ও প্রবাল সাগর এবং টরেস ও ব্যস প্রণালীর বেড়ে শান্তির সওদা নিয়ে শুয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ায় এখন বাংলাদেশিদের জন্যও স্থায়ী বসবাসের সুযোগ তৈরি হয়েছে। আর অভিবাসনের এই সুযোগ দিতে বেশ কিছু নতুন প্রোগ্রাম ওপেন করছে অস্ট্রেলিয়া। আপনি আপনার সামর্থ ও পরিকল্পনা বুঝে এর যে কোনো একটির মাধ্যমে স্থায়ী হয়ে যেতে পারেন ক্যাঙ্গারু আর ক্রিকেটের দেশ অস্ট্রেলিয়ায়।
এর দক্ষিণ-পূর্বে তাসমান সাগরের মাঝে জীবন-যাত্রার মান, প্রত্যাশিত আয়ুষ্কাল, শিক্ষার হার, শান্তি ও অগ্রগতি, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা ইত্যাদির অগ্রসরতা নিউজিল্যান্ডকে করে তুলেছে বিশ্বের সর্বাধিক বাসযোগ্য ভূমির অন্যতম একটিতে।
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসনের নতুন প্রোগ্রাম
অভিবাসনে আগ্রহীদের জন্যে নতুন প্রোগ্রাম চালু করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (ডিআইবিপি) এরই মধ্যে ২০১৬-১৭ বর্ষের জন্যে নতুন স্কিলের কর্মক্ষেত্রের তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করেছে। নতুন এ প্রোগ্রাম কার্যকর হবে এ বছরেরই ১০ জুলাই থেকে।
অভিবাসনে আগ্রহীদের জন্যে নতুন প্রোগ্রাম চালু করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব ইমিগ্রেশন অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (ডিআইবিপি) এরই মধ্যে ২০১৬-১৭ বর্ষের জন্যে নতুন স্কিলের কর্মক্ষেত্রের তালিকা প্রস্তুত ও প্রকাশ করেছে। নতুন এ প্রোগ্রাম কার্যকর হবে এ বছরেরই ১০ জুলাই থেকে।
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের নাগরিকদের স্থায়ী বসবাসের জন্যে বিভিন্ন ধরনের ভিসা নিয়ে কাজ করছেন বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড মাইগ্রেশন কনসালট্যান্টস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও চিফ কনসালট্যান্ট ড. শেখ সালাহউদ্দিন আহমেদ রাজু।
অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুন এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে স্কিলড মাইগ্রেশনের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় সপরিবারে নিরাপদ জীবনযাপনের সুযোগ রয়েছে।
এ ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তিতে বিশেষজ্ঞ, একাউন্টিং ও ফিন্যান্স, মার্কেটিং বা সেলস, ব্যাংকার, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কৃষিজীবী, নার্স বা অন্য কোন পেশায় দক্ষ পেশাজীবীদের জন্যে রয়েছে বিশেষ সুযোগ।
স্কিলড মাইগ্রেশন ভিসা, বিজনেস স্কিলড মাইগ্রেশন ভিসা, এমপ্লোয়ার স্পনসরড ওয়ার্ক ভিসা, পার্টনার অ্যান্ড আদার ফ্যামিলি মাইগ্রেশন ভিসা রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে।
এই তালিকার মধ্যে থাকা ব্যক্তিরা ১৮৯ (স্কিলড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভিসা), ৪৮৯ (স্কিলড রিজিওনাল প্রভিশনাল ভিসা এবং ৪৮৫ (গ্র্যাজুয়েট টেম্পরারি ভিসা)- এই তিনটি ক্যটাগরিতে আবেদন করতে পারবেন।
আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন আইন বিশেষজ্ঞ ড. সালাহউদ্দিন জানান, এছাড়াও কনসোলিডেটেড স্পন্সরড অকুপেশন লিস্ট (সিএসওএল) প্রকাশ করেছে ডিআইবিপি। যার মাধ্যমে ১৯০ (স্কিলড নমিনেটেড ভিসা), ৪৫৭ (টেম্পরারি ওয়ার্ক স্কিলড ভিসা) এবং ১৮৬ (এমপ্লয়ার নমিনেটেড স্কিম)। এগুলোর মাধ্যামেও অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার আবেদন করা যায়।
এছাড়াও রয়েছে- বিজনেস মাইগ্রেশন, স্কিলড মাইগ্রেশন, স্পাউজ মাইগ্রেশন বা প্যারেন্ট মাইগ্রেশন, অস্ট্রেলিয়া গ্র্যাজুয়েট, স্কিলড ইন্ডিপেন্ডেন্ট ভিসা (সাবক্লস ১৮৯), স্কিলড নমিনেটেড ভিসা (সাবক্লস ১৯০), স্কিলড নমিনেটেড (প্রভিশনাল) ভিসা (সাবক্লস ৪৮৯), স্কিলড রিজিওনাল ভিসা (সাবক্লস ৮৮৭), ফ্যামিলি স্পন্সরশিপ ভিসা: ফ্যামিলি স্পন্সরড (প্রভিশনাল) ভিসা (সাবক্লস ৪৮৯)।
ড. সালাহউদ্দিন বলেন, প্রায় ৪০০ এর মতো পেশা অর্ন্তভুক্ত রয়েছে এই প্রোগ্রামে। এর মধ্যে সাবক্লস ১৮৯, ১৯০ এবং ৪৮৯ এ আবেদন করে স্থায়ীভাবে বসবাস করা যায়। জবসহ স্পন্সর প্রোগ্রামে আবেদন করা যাচ্ছে সাবক্লস ৪৫৭, ১৮৬ এবং ১৮৭ তে। আর সাবক্লস ৪৫৭ ও ১৮৬ যৌথভাবে আবেদন করে দ্রুতই স্থায়ী নাগরিকত্ব গ্রহণ সম্ভব।
আবেদন করার প্রাথমিক যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে পোস্ট গ্রাজুয়েট সার্টিফিকেট (অনার্স এবং মাস্টার্স) ও পিএইচডি। তবে ইংরেজি দক্ষতার আওতায় কোর্স আইএলটিএস এ কমপক্ষে ৬ দশমিক ৫ স্কোর উঠাতে হবে।
নিউজিল্যন্ডে স্কিলড মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম
ড. সালাহউদ্দিন বলেন, প্রতি মাসে নিউজিল্যান্ড স্কিলড ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে ২ টি ড্র অনুষ্ঠিত হয়। বছরে প্রায় ১১ হাজার পরিবার এই পোগ্রামের আওতায় নিউজিল্যান্ডের স্থায়ী নাগরিকত্ব (পিআর) পেয়ে থাকে- যা নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুবর্ণ সুযোগ বলে বিবেচিত হয়।
ড. সালাহউদ্দিন বলেন, প্রতি মাসে নিউজিল্যান্ড স্কিলড ইমিগ্রেশন ক্যাটাগরিতে ২ টি ড্র অনুষ্ঠিত হয়। বছরে প্রায় ১১ হাজার পরিবার এই পোগ্রামের আওতায় নিউজিল্যান্ডের স্থায়ী নাগরিকত্ব (পিআর) পেয়ে থাকে- যা নিউজিল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুবর্ণ সুযোগ বলে বিবেচিত হয়।
নিউজিল্যান্ডে স্কিলড মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের আওতায় সপরিবারে স্থায়ীভাবে বসবাসের শর্তগুলো হচ্ছে- পোস্ট গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর আবেদনকারীর অবশ্যই মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কমপক্ষে ৩ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অথবা গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর অবশ্যই বিশেষ লং টার্ম স্কিলস শর্টেজ লিস্ট (এলটিএসএসএল) এর যে কোন একটি পেশায় কমপক্ষে ৩ বছর চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আর এক্ষেত্রেও আইএলটিএস স্কোর হতে হবে কমপক্ষে ৬ দশমিক ৫।
নিউজিল্যান্ডে সম্ভাব্য পেশার মধ্যে রয়েছে- ফরেস্ট সায়েন্টিস্ট, কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট ম্যনেজার, কনস্ট্রাকশন প্রজেক্ট বিল্ডার, কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ার, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, জেনারেল প্র্যাকটিশনার, প্যাথলজিস্ট, সাইকোথেরাপিস্ট, সোনোগ্রাফারসহ আরো কিছু খাত।
অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন ধরনের স্কিলড ভিসার বিষয়ে আরো জানতে যোগাযোগ করতে পারেন advahmed@outlook.com , raju.advocate2014@gmail.com এবং mausumimau2015@gmail.com এই মেইল ঠিকানায়। ভিজিট করুন www.wwbmc.com. ওয়েবসাইটে। সরাসরি ড. সালাহউদ্দিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলুন +৬০১৬৮১২৩১৫৪ এবং +৬০১৪৩৩০০৬৩৯ এই নাম্বারে।




No comments:
Post a Comment