Saturday, October 21, 2017

মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান। পর্ব-০১



মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান। পর্ব-০১



পৃথিবীর এক আজব দেশ বাংলাদেশ। এখানের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী স্বাধীনতা না চাইলেও তারা স্বাধীন হয়ে যায়। বিষয়টা জটিল মনে হলেও অতটা জটিল নয়। আপনারা আমার আগের পোস্টটি পড়লে অনেকাংশে ক্লিয়ার হয়ে যাবেন বলে আমার ধারণা। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের একটা অংশ, মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলামী, জামায়াতে ইসলামী, ওলামায়ে ইসলাম, পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাতীয় দল, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, পূর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি ইত্যাদি দল স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেয়। এ ছাড়াও ইসলামপন্থী মানুষ, মুসলিম জাতীয়তাবোধ সম্পন্ন মানুষ এবং চীনপন্থী সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী মানুষেরা স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেন। রাজা ত্রিদিব রায়ের সকল চাকমা প্রজাসহ অন্যান্য প্রায় সকল উপজাতি পাকিস্তান রক্ষার ভূমিকা রাখেন। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী সকল মানুষ পাকিস্তানের ভাঙ্গন ঠেকাতে তৎপর ছিলেন।

স্বাধীনতার বিপক্ষে তাদের অবস্থানের কারণঃ 
১- স্বৈরাচার বিরোধী ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে দেশভাঙ্গার আন্দোলনে পরিণত হতে দিতে চাননি। 
২- যেখানে শেখ মুজিব পুরো পাকিস্তানের নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা রাখে সেখানে দেশ ভেঙ্গে নিজেদের ক্ষমতাকে ছোট করা অযৌক্তিক। 
৩- গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হলেই সকল সমস্যা ও সংকটের অবসান হয় সেখানে চিরশত্রু ভারতের প্ররোচনায় যুদ্ধ লাগিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাননি। 
৪- পাকিস্তান বৃহত্তম ও শক্তিশালী মুসলিম দেশ। বিশ্ব মুসলিমের নেতৃত্ব এই দেশ দিচ্ছে। 
৫- রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, ও সামরিক দিক দিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের চাইতে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। 
৬- পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হলে ভারতের ঘেরাওয়ের মধ্যে পড়ে এদেশের মুসলিমদের অবস্থা বিপন্ন হবে। 
৭- ভারতের সাহায্য নিয়ে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন রাষ্ট্র তৈরী হলে সেই রাষ্ট্র হবে ভারতের আজ্ঞাবহ একটি রাষ্ট্র, যার জাতীয় পতাকা থাকবে, সরকার থাকবে কিন্তু কোন সার্বভৌমত্ব থাকবে না। 

যারা স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন তাদেরকে আমরা ছয়টি ভাগে ভাগ করতে পারি
১-রাজনৈতিক শক্তিঃ পাকিস্তান সরকার, মালেক মন্ত্রীসভা, শান্তি কমিটি, সামরিক সরকারের মুখপাত্র, রাজনৈতিক দলসমূহ। 
২-সামরিক শক্তিঃ পাকিস্তান সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনীসমূহ, বাংলাভাষী পাকিস্তান সামরিক বাহিনী, পুলিশ বাহিনী ও রেজাকার বাহিনী। 
৩-ধর্মীয় শক্তিঃ ইসলামপন্থী ও মুসলিম জাতীয়তাবোধসম্পন্ন সকল দল ও গোষ্ঠী, ইসলামী ব্যক্তিত্ব, বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। 
৪-বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিঃ বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং অন্যান্য পেশাজীবী। 
৫-প্রশাসনিক শক্তিঃ সরকারি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা 
৬-অন্যান্য সহায়ক শক্তিঃ বিহারী, আলবদর, আশশামস ও মুজাহিদ বাহিনী। 

পাকিস্তান সরকারঃ 
তৎকালীন পাকিস্তানের সামরিক সরকার অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে তাদের ভাষায় সকল ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ দমন করতে চেয়েছেন। তারা অভিন্ন পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন এটা বলার অপেক্ষা রাখে না। সামরিক দিক দিয়েও পূর্ব-পাকিস্তানের খুব প্রয়োজন ছিল সামরিক বাহিনীর। 
ক- Geo- Military strategic point এ পূর্ব পাকিস্তান একটি গুরুত্বপুর্ণ স্থান 
খ- পূর্ব-পাকিস্তানের জনসংখ্যার হিসেবকে কাজে লাগিয়ে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করা সহজ। 
গ- চিরশত্রু ভারতকে সামরিক দিক থেকে কাবু রাখার জন্য দ্বিমুখী আক্রমনের কৌশলের জন্য পূর্ব-পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ[১] । 

মালেক মন্ত্রীসভা
পূর্ব পাকিস্তানের সর্বশেষ গভর্ণর ছিলেন ডাঃ আব্দুল মোত্তালেব মালেক। উনি এবং ওনার ১৪ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রীসভাই মালেক মন্ত্রীসভা হিসেবে পরিচিত। এই মন্ত্রীসভায় ইসলামী ও মুসলিম জাতীয়তাবাদী দল ছাড়াও আওয়ামীলীগের তিনজন সংসদ সদস্য ছিলেন। নিচে তাদের নাম ও দলের নাম উল্লেখ করা হলো[২]। 
১- ডাঃ আব্দুল মোত্তালেব মালেক/ মুসলিম লীগ (কাউন্সিল) 
২- আবুল কাশেম/ মুসলিম লীগ (কাউন্সিল) 
৩- নওয়াজেশ আহমেদ/ মুসলিম লীগ (কাউন্সিল) 
৪- আখতার উদ্দিন আহমেদ/ মুসলিম লীগ (কনভেনশন) 
৫- মুজিবুর রহমান/ মুসলিম লীগ (কাইয়ুম)
৬- ওবায়দুল্লাহ মজুমদার/ আওয়ামী লীগ (জাতীয় পরিষদ সদস্য)
৭- শামসুল হক/ আওয়ামীলীগ (প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য)
৮- আউং শু প্রু চৌধুরী/ আওয়ামীলীগ (প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য) 
৯- এ এস এম সোলায়মান/ কৃষক শ্রমিক পার্টি 
১০- মাওলানা মোহাম্মদ ইসহাক/ নেজামে ইসলামী 
১১- জসিম উদ্দিন আহমদ/ পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি 
১২- এ কে মোশারফ হোসেন/ পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি
১৩- এ কে এম ইউসুফ/ পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি[৩]
১৪- আব্বাস আলী খান/ জামায়াতে ইসলামী 

শান্তি কমিটিঃ
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন থেকে যুদ্ধাবস্থা তৈরী হলে এদেশের রাজনৈতিক নেতারা যুদ্ধ থামানো এবং পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষা করার জন্য শান্তি কমিটি গঠন করেন। এতে মুসলিম লীগের তিনটি অংশ, আওয়ামীলীগের একাংশ, নেজামে ইসলামী, জামায়াতে ইসলামী এবং উপজাতিরা এই কমিটিতে অংশগ্রহন করেন। এই কমিটি গঠনে মূল উদ্যোক্তা ছিলেন পিডিপির নুরুল আমীন। প্রথমে ২৭ সদস্য বিশিষ্ট এবং পরে ১৪০ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি গঠিত হয়[৪,৫] । ৪ এপ্রিল ১৯৭১ তারিখে নূরুল আমিনের নেতৃত্বে মৌলভী ফরিদ আহমদ, সৈয়দ খাজা খয়েরুদ্দিন, এ কিউ এম শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক গোলাম আযম, মাওলানা নুরুজ্জামান সহ ১২ জন রাজনৈতিক নেতা টিক্কা খানের সাথে দেখা করেন[৬]। সেখানে তারা সেনাবাহিনীকে সহযোগীতা করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং সেনাবাহিনীকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদীদের’ ধরার অজুহাতে সাধারণ মানুষদের উপর জুলুম অত্যাচার বন্ধের প্রতিশ্রুতি আদায় করেন। উপরোক্ত নেতারা ছাড়াও কেন্দ্রীয় কমিটিতে মুসলিম লীগের নুরুল হক, আবুল কাশেম, ব্যারিস্টার আখতার উদ্দিন, আওয়ামী লীগের আব্দুল জব্বার খদ্দর, এ কে এম রফিকুল হোসেন, পিডিপির মাহমুদ আলী, ব্যারিস্টার আফতাব উদ্দিন, জমিয়তে উলামার পীর মোহসেন উদ্দিন দুদু মিয়া প্রমুখ নেতা ছিলেন। 

সরকারের মুখপাত্রঃ
তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্র হিসেবে কিছু বাঙ্গালী নেতা অংশগ্রহন করেন। তারা বহির্বিশ্বে পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনাকে আভ্যন্তরীণ ইস্যু এবং এই ইস্যুতে প্রতিবেশী ভারতের ষড়যন্ত্রের বিষয়গুলো প্রাচারণার দায়িত্বে ছিলেন। পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষায় বহির্বিশ্বের সহযোগিতা কামনা করেন। এদের তালিকা নিন্মে দেয়া হল[৭]

১- হামিদুল হক চৌধুরী/ মালিক, পাকিস্তান অবজার্ভার
২- মাহমুদ আলী/ পিডিপির ভাইস চেয়ারম্যান 
৩- শাহ আজিজুর রহমান/ মুসলিম লীগ নেতা/ পরবর্তিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী (১৯৮৩) 
৪- জুলমত আলী খান/ মুসলিম লীগ নেতা/ পরবর্তিতে এরশাদ আমলের মন্ত্রী
৫- মিসেস রাজিয়া ফয়েজ/ মুসলিম লীগ নেতা/ পরবর্তিতে এরশাদ আমলের মন্ত্রী 
৬- ড. ফাতিমা সাদিক/ অধ্যাপিকা, ঢাকা ভার্সিটি 
৭- এডভোকেট এ কে সাদী/ আইনজীবী, ঢাকা হাইকোর্ট 
৮- মৌলভী ফরিদ আহমদ/ পিডিপি নেতা/ সৌদী ও মিশরের দায়িত্বে ছিলেন 
৯- তবারক হোসেন/ চীনের দায়িত্বে ছিলেন/ সর্বশেষে বাংলাদেশ আমলে পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন
১০- বিচারপতি নুরুল ইসলাম/ বিশেষ দূত, জেনেভা/ পরবর্তিতে এরশাদ আমলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
১১- ড. সাজ্জাদ হোসাইন/ বিশেষ দূত, মধ্যপাচ্য এবং ইসলামী রাষ্ট্রসমূহ/ ভিসি, ঢাবি। 

রাজনৈতিক দলঃ

পাকিস্তান গঠনের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম লীগের জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। উপরন্তু এই মুসলিম লীগ তিন ভাগে ভাগ হয়ে তাদের শক্তি আরো হারিয়ে ফেলে। কাউন্সিল, কনভেনশন এবং কাইয়ুম এই তিন ভাগে তারা ভাগ হয়। মুসলিম লীগের তিন পক্ষই স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধীতা করে। এছাড়া ন্যাপ (মুজাফফর), ন্যাপ (ভাসানী), মনি সিং এর কমিউনিস্ট পার্টি, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, ওলামায়ে ইসলাম, পাকিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাতীয় দল, কৃষক শ্রমিক পার্টি, পূর্ব-পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টি, কৃষক শ্রমিক সমাজবাদী দল এবং আওয়ামী লীগের একাংশ অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিশ্চিত করে। 

আওয়ামী লীগের একাংশঃ 
২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইট এবং ২৬ মার্চ মেজর জিয়ার ক্যু এর পর আওয়ামী লীগের একটা অংশ খুব দ্রুত ভারতে সশস্ত্র অবস্থায় পাড়ি জমায়[৮]। কারণ তাজউদ্দিন আহমদের সাথে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সরকারের সঙ্গে আগেই সমজোতা হয়েছিল এবং তাজউদ্দিন আহমদ দেশবিক্রীর চুক্তি করেছে[৯,১০,১১]। আর এর ফলেই বেসামরিক লোকের সাথে মিশে গিয়ে সশস্ত্র আওয়ামী কর্মীরা ভারত পাড়ি দেয়। এই ধরণের ষড়যন্ত্রের সাথে একমত না হয়ে অনেক আওয়ামী লীগ থেকে মনোনীত হয়ে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদ সদস্য এবং প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যসহ বহু নেতা কর্মী স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করা থেকে শুধু বিরত থাকেননি বরং পূর্ব পাকিস্তান সরকারের মন্ত্রীত্ব গ্রহন, শান্তি কমিটিতে নেতৃত্ব প্রদান, রেজাকার বাহিনীতে যোগদান সহ সব ধরণের স্বাধীনতা বিরোধী কর্মকান্ডে অংশগ্রহন করেন। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মেয়ে আক্তার সোলায়মান অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে প্রচারণা চালান এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেন। এই ব্যাপারে তিনি সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অধিকাংশ আওয়ামীলীগের সদস্যরা আওয়ামিলীগের একটা অংশের বিচ্ছিন্নতাবাদী পরিকল্পনার কথা জানতেন না। আমরা জানি জনগণ নির্বাচনের সময় অধিকতর শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ পাকিস্তান গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছিল’।[১২] এছাড়াও আওয়ামীলীগ নেতা ড. কামাল হোসেনও যুদ্ধে যোগ না দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান এবং সেখানে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন[১৩]। আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে জাতীয় পরিষদ সদস্য এবং প্রাদেশিক পরিষদ সদস্যদের যারা স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন এমন বহু নেতার তালিকা পাওয়া যায় আখতার মুকুল এবং সামছুল আরেফীন সাহেবের লেখা বইয়ে[১৪,১৫]। নির্বাচিত সদস্যের বাহিরে খন্দকার নূর হোসেন, তার ছেলে খন্দকার মোশাররফ হোসেন[১৬]মুসা বিন শমসের[১৭] এবং মীর্জা কাশেম[১৮] মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। 

চীনপন্থী সমাজতান্ত্রিক দলঃ 
সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্কের কারণেই চীন মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেয়। চীনের এই নীতির প্রভাব পড়ে এদেশের চীনপন্থী দলগুলোর উপর। আর ভারতের জন্যও সমস্যা ছিল চীনপন্থী বামেরা। তারা পূর্ব বাংলায় স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সব মিলিয়ে এদেশের চীনপন্থীরা স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহন করেনি। বরং পাকিস্তানের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। 

মুক্তিযোদ্ধাদের মোটিভেশন ক্লাসে এরকম বলা হত যে, “একজন রাজাকারকে যদি তোমরা ধর, তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে, তাকে নানাভাবে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করবে। বার বার এইরকম করবে। তাকে নানাভাবে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করবে। এতেও যদি কাজ না হয়, প্রয়োজনে শারিরীক নির্যাতন করবে এবং এভাবে যত পারো তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করবে। এরপর এদের কারাগারে নিক্ষেপ করবে। আর যদি একজন চীনা কমিউনিস্টকে ধর সাথে সাথে তার প্রাণ সংহার করবে”[১৯]

রুশপন্থী কমিউনিস্ট পার্টি ৩১.০৮.১৯৭১ তারিখে তাদের যে রাজনৈতিক নীতিমালা প্রকাশ করে তাতেও চীনা নেতাদেরকে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী ও শত্রুদের সাহায্যকারী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের থেকে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে। “মনে রাখতে হবে চীনের নেতারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করিতেছে ও আমাদের শত্রুদের সাহায্য করিতেছে। দেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী চীনপন্থীদের সম্পর্কে হুশিয়ার থাকতে হবে[২০]।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরও চীনপন্থীদের উপর মুজিববাদীদের হুমকির কথা বর্ণনা দিয়ে শেখ হাসিনার স্বামী ওয়াজেদ মিয়া বলেন, “ঐদিন(১৫ জানুয়ারী ১৯৭২) ড. ইসহাক তালুকদার আমাকে আরো জানান যে, কাজী জাফর ও রাশেদ খান মেননদের দলসহ পিকিংপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের নিধন করা হবে বলে মুজিব বাহিনী হুমকি দিয়েছে। যার ফলে সম্ভাব্য হানাহানি ও রক্তপাত এড়ানোর জন্য ঐ দলগুলোর নেতা ও কর্মীরা লুকিয়ে আছেন[২১]

এম আর আখতার মুকুল বলেন, “পিকিংপন্থী পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে পূর্ব পাকিস্তানে ভারতীয় আগ্রাসন বলে আখ্যায়িত করলো যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলে এদের নেতৃত্ব দেন কমরেড আবদুল হক, কমরেড সত্যেন মিত্র, কমরেড বিমল বিশ্বাস, কমরেড জীবন মুখার্জী প্রমুখ। এসব অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের সময় পিকিংপন্থী হক গ্রুপের সাথে মুক্তি বাহিনীর বেশ কয়েক দফা সশস্ত্র সংঘর্ষ হয়[২২]।”

ইসলামী দলসমূহঃ
ইসলামী দলসমূহের মধ্যে সাংগঠনিক শক্তি জামায়াতের থাকলেও জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে নেজামী ইসলামী ভালো অবস্থানে ছিল। সব ইসলামী দলগুলো তাদের নিজেদের মধ্যকার বিভেদকে অতিক্রম করে ইসলাম ও পাকিস্তান রক্ষায় এবং ভারতের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে জাতিকে সচেতন করার জন্য একত্রে কাজ করেন এবং বক্তব্য বিবৃতি দিয়ে পাকিস্তানের পক্ষে ও বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং ভারতীয় ক্রীয়ানকদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। 

মুসলিম জাতীয়তাবাদী দলঃ 
মুসলিমলীগের নেতৃত্বে সকল মুসলিম জাতীয়তাবাদী দল তাদের বিভেদ সত্ত্বেও পাকিস্তান রক্ষায় একাট্টা হয়ে যায়। স্বাধীনতা বিরোধী প্রায় সকল প্লাটফর্মের নেতৃত্বে তারা ছিলেন। 

সামরিক শক্তিঃ 

পাকিস্তান সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনীসমূহ, বাংলাভাষী পাকিস্তান সামরিক বাহিনী, পুলিশ বাহিনী ও রেজাকার বাহিনী।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীঃ 
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মধ্যে যারা বাঙ্গালী ছিলেন না তারা পুরোদস্তুর পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। আর যেসব সেনা অফিসার বাঙ্গালী ছিলেন তাদের মধ্যেও অধিকাংশ অফিসার তাদের শপথের ব্যাপারে ও দেশের প্রতি কমিটমেন্টের ব্যাপারে বিশ্বাসী ছিলেন। বিপুল সংখ্যক বাঙ্গালী সেনা কর্মকর্তা মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে পাকিস্তান রক্ষার জন্য যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। যুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে গুরুত্বপুর্ণ অবদান রেখেছেন এমন ১০৪ জন সেনা অফিসারের তালিকা পাওয়া যায় সামছুল আরেফীন সাহেবের লিখা বইয়ে। এর মধ্যে মেজর ফরিদ উদ্দিন, ক্যপ্টেন ফখরুল আহসান, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ইমদাদ হোসেন, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট নাছির উদ্দিন, স্কোয়ার্ড্রন লিডার হাসানুজ্জামান মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর আক্রমনে মৃত্যুবরণ করেন[২৩]। মজার বিষয় হলো শেখ মুজিব সেনাবাহিনীর এই অফিসারদের প্রায় সকলকেই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে নেন। শুধু তাই নয় যেসব বাঙ্গালী সেনা অফিসার পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন তাদেরও তিনি সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করে নেন। জিয়াউর রহমানও একই নীতি বজায় রেখে এসব অফিসারদের প্রমোশন দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সেনা অফিসারদের আক্রোশের কবলে পড়েন[২৪]। 

পুলিশ বাহিনীঃ 
পুলিশ বাহিনী যুদ্ধাবস্থায় সামরিক বাহিনীর কমান্ডের অধীনে পরিচালিত হয়। তৎকালীন পুলিশের অল্প কয়েকজন হাতে গোণা অফিসার ছাড়া বাকী সবাই মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেন এবং এরজন্য তাদেরকে মূল্যও দিতে হয়। মুক্তিবাহিনীর বেশিরভাগ আক্রমণের শিকার হয়েছে পুলিশ বাহিনী এবং প্রচুর হতাহত হয়েছে তাদেরকে। সেসময় যারা পুলিশের অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং স্বাধীনতা বিরোধী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তাদের তালিকাও সামছুল আরেফীন সাহেবের বইয়ে লিপিবদ্ধ হয়েছে[২৫,২৬]। এখানেও মজার কাজ করেছেন শেখ মুজিব। মুক্তিবাহিনীর বিরুদ্ধে অবস্থানকারী কোন পুলিশ অফিসারকে দায়িত্ব থেকে অপসারন তো করেননি বরং তাদের সবাইকে সচিব বানিয়ে পুরষ্কিত করেন। আইজি টি আহমেদ, অতিরিক্ত আইজি আহমেদ ইব্রাহীম, ডিআইজি আবদুর রহীম এরা সবাই শেখ মুজিবের আমলে পর্যায়ক্রমে স্বরাষ্ট্র সচিব হন। এখানে আরো ইন্টারেস্টিং বিষয় রেজাকার বাহিনী গঠন করার পর পুলিশ থেকে ডি আইজি আব্দুর রহীমকে নিয়ে রেজাকার বাহিনীর প্রধান করা হয়। রেজাকার বাহিনীর প্রধানও শেখ মুজিব কর্তৃক পুরষ্কিত হন। 

রেজাকার বাহিনীঃ 
“রেজাকার” শব্দটির অর্থ হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবক[২৭]। ১৯৭১ সনে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীকে সহায়তা করার জন্য তৎকালীন পাকিস্তান সরকার “আনসার আইন ১৯৪৮” বাতিল করে “রাজাকার অধ্যাদেশ ১৯৭১” অনুযায়ী এ বাহিনী গঠন করে। জেনারেল নিয়াজী এক সাক্ষাৎকারে মুনতাসীর মামুনকে বলেছিলেন যে, রাজাকার বাহিনীর তিনিই স্রষ্টা। বিলুপ্ত আনসার বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা সয়ংক্রিয়ভাবে নবগঠিত রাজাকার বাহিনীর কমান্ডার ও রাজাকার সদস্য হিসেবে গণ্য হন। 

এর বাইরে রাজনৈতিক কর্মী, স্থানীয় বখাটে, বেকার যুবকদের মধ্য থেকে প্রায় ৩৭০০০ জনকে এ বাহিনীতে কমান্ডার হিসেবে রিক্রুট করা হয়। প্রতিটি কমান্ডারের অধীনে কমপক্ষে দশজন রেজাকার সদস্য ছিলেন। এ বিপুল সংখ্যায় রাজাকার রিক্রুট হওয়ার পিছনে অনেকগুলো কারণ কাজ করেছিল। বাংলাদেশের সবগুলো ইসলামপন্থী ও মুসলিম জাতীয়তাবাদী দলের কোনটিই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি । ফলে তাদের সমর্থকদের মধ্য থেকে একটা অংশ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজাকার বাহিনীতে শামিল হয় । তবে এ বাহিনীতে আদর্শবাদী লোকদের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। প্রকৃত পক্ষে নিয়মিত ভাতা, রেশন, স্থানীয় ক্ষমতার ব্যবহার এবং সর্বোপরি হিন্দু সম্প্রদায় ও স্বাধীনতার পক্ষের সদস্যদের ঘরবাড়ী ও বিষয়-সম্পত্তি অবাধে লুটপাট ও ভোগ দখল করার লোভে সমাজের সুযোগ-সন্ধানী এক শ্রেণীর লোক ব্যাপকহারে রাজাকার বাহিনীতে যোগদান করেন[২৮]। 

কামরুদিন আহমদ তার “স্বাধীন বাংলার অভ্যুদয়” বইতে এ বিষয়ের একটা প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছেন[২৯]। তিনি লিখেছেন, বাঙ্গালীদের রাজাকার বাহিনীতে ভর্তি হবার কতকগুলো কারণ ছিল, তা হলঃ

১. দেশে তখন দুর্ভিক্ষাবস্থা বিরাজ করছিল । সরকার সে দুর্ভিক্ষের সময় ঘোষণা করল, যারা রেজাকার বাহিনীতে যোগ দেবে, তাদের দৈনিক নগদ তিন টাকা ও তিন সের চাউল দেয়া হবে । এর ফলে বেশ কিছু সংখ্যক লোক, যারা এতদিন পশ্চিমা সেনার ভয়ে ভীত হয়ে সন্ত্রস্ত দিন কাটাচ্ছিল, তাদের এক অংশ এ বাহিনীতে যোগদান করল। 

২. এতদিন পাক সেনার ভয়ে গ্রামে-গ্রামাঞ্চলে যারা পালিয়ে বেড়াচ্ছিল, আত্মরক্ষার একটি মোক্ষম উপায় হিসেবে তারা রেজাকারদের দলে যোগ দিয়ে হাঁফ ছেড়ে বাচলো। 

৩. এক শ্রেণীর সুবিধাবাদী জোর করে মানুষের সম্পত্তি দখল করা এবং পৈতৃক আমলের শক্রতার প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ গ্রহণের জন্যেও এ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিল।

রেজাকার বাহিনীতে ভর্তি হবার পর তাদের বুঝানো হলো যে, যুদ্ধে পাক সেনারা হারলে, পাক সেনাদের সঙ্গে সহযোগিতা করার অপরাধে মুক্তি বাহিনী তাদের সকলকে হত্যা করবে। সুতরাং জীবন রক্ষা করার জন্য মুক্তি বাহিনীর গুপ্ত আশ্রয়স্থলের সংবাদ তারা পাক সেনাদের জানিয়ে দিতে শুরু করে। 

খন্দকার আবুল খায়ের বলেন আমি যে জেলার লোক সেই জেলার ৩৭ টি ইউনিয়নের থেকে জামায়াত আর মুসলীম লীগ মিলে ৭০ এর নিবাচনে ভোট পেয়েছিল দেড়শতের কাছাকাছি আর সেখানে রেজাকারের সংখ্যা ১১ হাজার যার মাত্র ৩৫ জন জামায়াতে ইসলামের ও মুসলিম লীগারদের[৩০]। বাকীদের মধ্যে অধিকাংশ ছিল আওয়ামীলীগের ও সাধারণ মানুষ। 

তিনি আরো বলেন, আমার কিছু গ্রামের খবর জানা আছে, যেখানে ৭১ এর ত্রিমুখী বিপর্যয়ের হাত থেকে বাচার জন্য গ্রামে মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, দুই দিকেই ছেলেদের ভাগ করে দিয়ে বাঁচার ব্যবস্থা করতে হবে । এই সিদ্ধান্ত মুতাবিক যে গ্রামের শতকরা ১০০ জন লোকই ছিল নৌকার ভোটার, তাদেরই বেশ কিছু সংখ্যক ছেলেদের দেয় রাজাকারে। যেমন কলাইভাঙা গ্রামের একই মায়ের দুই ছেলের সাদেক আহমদ যায় রাজাকারে আর তার ছোট ভাই ইজহার যায় মুক্তিফৌজে। 

রাজাকার বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদের মূল্যায়ন প্রায় একই; তিনি বলেন, বিভিন্ন তথ্যসূত্র থেকে প্রাপ্ত প্রমাণাদি হতে একথা বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে, রাজাকার রাজাকারই; তবে সব রাজাকার এক মাপের ছিলো না । প্রাথমিকভাবে রাজাকার বাহিনীতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের যুবক অন্তৰ্ভূক্ত হলেও তাদেরকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যায়

১. যারা নিজেদের ইসলাম ও পাকিস্তান রক্ষা করার লক্ষ্যে পাক সামরিক বাহিনীকে সহায়তা, বাঙালী হত্যা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে যুদ্ধ করাকে কর্তব্য মনে করেছিলো। যারা পাকিস্তানী জাতীয়তাবাদ বা মুসলিম জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ছিলো। 

২. যারা হিন্দু সম্পত্তি দখল লুটপাট, ব্যক্তিগত গ্রামীণ রেষারেষিতে প্রাধান্য বিস্তার ও প্রতিশোধ গ্রহণ এবং নানান অপকর্ম করার সুযোগ গ্রহণ করেছিলো, এবং দেশ ছেড়ে যাওয়া অসম্ভব ছিল তাদের বেশিরভাগ পেটের তাড়নায় কর্মসংস্থানের জন্য এবং একই সাথে ভয়ভীতি এবং প্রলুব্ধ হয়ে রাজাকার বাহিনীতে নাম লেখাতে বাধ্য হয়।

রাজাকার বাহিনী সুশৃঙ্খল বাহিনী ছিলো না। বরং এদেরকে পাক বাহিনী দাবার ঘুটি হিসেবে ব্যবহার করেছে। অধিকাংশই হয়েছে বলির পাঠা। তাদেরকে সামনে রেখেই পাকবাহিনী সর্বত্র অগ্রসর হয়েছে[৩১]

রাজাকার বাহিনীর প্রধান কমান্ডার ছিলেন পুলিশের ডিআইজি আবদুর রহিম যাকে শেখ মুজিব স্বাধীনতা যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা নির্ধারণের জন্য ১২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রধান ও পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র সচিব করেছিলেন। রাজাকার বাহিনীর মূল পরিচালক, জেলা ও মহকুমা কমান্ডারদের তালিকা পাওয়া যায় সামছুল আরেফিন সাহেবের বইয়ে[৩২, ৩৩]

তথ্য উৎসঃ
১- বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ : বহুমাত্রিক বিশ্লেষন/ এম আই হোসেন/ পৃঃ- ৯০
২- চরমপত্র/ এম আর আখতার মুকুল/ পৃঃ- ৩৩০ 
৩- তিনি তৎকালীন সময়ে পিডিপি’র সাথে যুক্ত থাকলেও পরে জামায়াতে ইসলামীতে যুক্ত হন এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত অবস্থায় কারাগারে ইন্তেকাল করেন 
৪- একাত্তরের ঘাতকেরা কে কোথায়?/ মুক্তিযোদ্ধা চেতনা বিকাশ কেন্দ্র/ পৃঃ- ৩০
৫- চরমপত্র/ এম আর আখতার মুকুল/ পৃঃ- ৪৩ 
৬- বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ : বহুমাত্রিক বিশ্লেষন/ এম আই হোসেন/ পৃঃ- ৯৩
৭- চরমপত্র/ এম আর আখতার মুকুল/ পৃঃ- ৩৩১
৮- বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১/ এইচ টি ইমাম/ পৃঃ ১৪৩ 
৯- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ‘র’ এবং সিআইএ/ মাসুদুল হক/ পৃঃ- ৮১ 
১০- বাংলাদেশে ‘র’/ আবু রুশদ/ পৃঃ- ৪৯ 
১১- দুঃসময়ের কথাচিত্র সরাসরি/ ড. মাহবুবুল্লাহ ও আফতাব আহমেদ/ পৃঃ- ৪৬২ 
১২- বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ : বহুমাত্রিক বিশ্লেষন/ এম আই হোসেন/ পৃঃ- ৯৮
১৩- দুঃসময়ের কথাচিত্র সরাসরি/ ড. মাহবুবুল্লাহ ও আফতাব আহমেদ/ পৃঃ- ১৬৮
১৪- চরমপত্র/ এম আর আখতার মুকুল/ পৃঃ- ৩৩২-৩৩৩ 
১৫- বাংলাদেশে নির্বাচন ১৯৭০-২০০১/ এ এস এম সামছুল আরেফীন/ পৃঃ- ৫০২- ৫১৭ 
১৬- শেখ হাসিনার বেয়াই এবং মন্ত্রীসভার সদস্য 
১৭- শেখ সেলিমের বেয়াই 
১৮- সাবেক যুবলীগ সভাপতি মীর্যা আযমের পিতা 
১৯- দুঃসময়ের কথাচিত্র সরাসরি/ ড. মাহবুবুল্লাহ ও আফতাব আহমেদ/ পৃঃ- ৩০৯ 
২০- বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ : বহুমাত্রিক বিশ্লেষন/ এম আই হোসেন/ পৃঃ-১০৩
২১- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ/ ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া/ পৃঃ- ১৩৭ 
২২- আমি বিজয় দেখেছি/ এম আর আখতার মুকুল/ পৃঃ- ৩৬৫
২৩- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান/ এ এস এম সামছুল আরেফীন/ পৃঃ- ৩৬২-৩৭৫
২৪- দ্বিতীয় খুনের কাহিনী/ মশিউল আলম/ প্রথমা প্রকাশনী 
২৫- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান/ এ এস এম সামছুল আরেফীন/ পৃঃ- ৩৮০-৩৯৬
২৬- বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ : বহুমাত্রিক বিশ্লেষন/ এম আই হোসেন/ পৃঃ- ১১৩-১১৬ 
২৭- শান্তি কমিটি ১৯৭১/ মুন্তাসির মামুন/ পৃঃ- ১২
২৮- মূলধারা ‘৭১/ মঈদুল হাসান/ পৃষ্ঠা- ৭৫ 
২৯- স্বাধীন বাংলার অভ্যুদয় এবং অতঃপর/ কামরুদ্দিন আহমদ/ পৃঃ- ১২৬-১২৭ 
৩০- "১৯৭১-এ কি ঘটেছিলো, রাজাকার কারা ছিলো/ খন্দকার আবুল খায়ের/ পৃঃ- ৪৪-৪৫
৩১- সাধারণ ক্ষমার ঘোষনার প্রেক্ষিত ও গোলাম আযম/ আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ/ পৃঃ- ৭৫
৩২- মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ব্যক্তির অবস্থান/ এ এস এম সামছুল আরেফীন/ পৃঃ- ৪০৭-৪০৯ 
৩৩- দি ঢাকা গেজেট/ ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭১



আহমেদ আফগানীর ব্লগ 
আফগানীর খেরোখাতা থেকে সংগৃহিত 

Friday, June 2, 2017

বাংলাদেশ থেকে অনলাইনে আয় করার ২৫ টি জনপ্রিয় উপায়


এখন কোন স্বপ্ন নয় বরং বাস্তবতা।আইটি ক্ষেত্রে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে । সেই সাথে বাড়ছে ফ্রি-ল্যান্সারদের সংখ্যা। অনেকেই নতুনভাবে আগ্রহী হচ্ছেন ফ্রি-ল্যান্সিং বা আউটসোর্সিং এ । সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই অনলাইনে আয় করতে পারেন না । যারা নতুনভাবে ফ্রি-ল্যান্সিং শুরু করতে চাচ্ছেন তাদের জন্য এই পোষ্টটি। আইটি শিক্ষার অনলাইনে আয় বিষয়ক যে সকল আর্টিকেল আপনার কাজে লাগতে পারে রিভিউ লিখে আয় করুন ওয়েব ডিজাইনারের আয়ের বিভিন্ন উপায় অনলাইনে আয় বিষয়ক বিভিন্ন গুরত্বপুর্ণ তথ্য
১. একটি ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরী করুন এবং অ্যাডভার্টাইজিং নেটওয়ার্ক যেমন গুগল অ্যাডসেন্স বা ক্রয়বিক্রয়(buysell) অ্যাড এর মাধ্যমে আয় করতে পারেন। আপনি চাইল গুগল ডাবলক্লিক এর মাধ্যমেও সরাসরি আয় করতে পারেন। অনেকের কাছেই অ্যাডসেন্স অ্যপ্রুভ করা ঝামেলার বিষয়। কিভাবে অ্যাডসেন্স অ্যাপ্রুভ করবেন প্রয়োজনীয় নিদের্শাবলী দেখুন অ্যাডসেন্স নিদের্শনা
২.মেইলচিম্পের মাধ্যমে ইমেইল নিউসলেটার সেল করে আয় করতে পারেন। স্পন্সর বা সাবস্ক্রাইবার খুজে বের করতে হবে । যেখানে ভিজিটররা নিউসলেটার পাওয়ার জন্য টাকা দিয়ে সাবস্ক্রাইব করবে। HackerNewletter, NowIKnow এবং Launch.co এই ধরনের কাজের ভাল উদাহরণ হতে পারে।
৩. নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলুন এবং ইউটিউবের পার্টনার হয়ে যান। আপনি Oneload সাইটটি ব্যবহার করে আপনার ভিডিওটি অনেক সাইটে ছড়িয়ে দিতে পারেন।
৪. সৃজনশীল কিছু তৈরী করুন যেমন হ্যান্ডবেগ জুয়েলারি পেইন্টিং বা কুটিরশিল্প ইত্যাদি এবং তা বিক্রয় করতে পারেন ইটসি, আর্টফায়ার বা ই-বে তে বিক্রয় করতে পারেন।
৫.টি-শার্টের ডিজাইন করুন এবং www.threadless.com, জাজে বা ক্যাফেপ্রেস এ রাখুন। আর বিক্রয় করুন।
৬.নিজের অনলাইন স্টোর তৈরী করুন তা নিজস্ব ডোমেইন বা সপিফাই (shopify),স্কয়ার (লিংক: http://www.squarespace.com )স্পেস এ হতে পারে। যেকোন বস্তু খাবার থেকে শুরু করে ডিজিটাল পণ্য সবই সেল করতে পারেন।
৭.যে কোন বিষয়ের উপর বই লিখুন। তা কিন্ডেল স্টোর , গুগল, বা আইবুক এ প্রকাশ করুন। আপনি চাইলে ই বুক হিসাবে অন্য রিটেইলার দের কাছে ও বিক্রয় করতে পারেন। অন্য রিটেইলার বিক্রয়ের জন্য স্মাশউড ( Smashwoods )বা বুকবেবি (BookBaby) ব্যবহার করতে পারেন।
৮. ইউডেমি Udemy বা স্কিল শেয়ারের SkillShare শিক্ষক হিসাবে যোগদান করুন আপনার প্রিয় বিষয় নিয়ে টিউটোরিয়াল তৈরী করুন। গিটার থেকে শুরু করে সাহিত্য ইয়োগা থেকে বিদেশী ভাষা যেকোন কিছু আপনি আন্তর্জাতিকভাবে শেখাতে পারেন।
৯. কোডিং শিখুন । গুরু Guru , ই-ল্যান্স eLance , আপওয়ার্ক , বি-ল্যান্সার এর মত মার্কেট প্লেস এ সফট্‌ওয়ার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টে কাজ করুন। ১০. ভার্চুয়াল অফিস অ্যাসিস্টেন্ট হিসাবে প্রশাসনিক বা টেকনিক্যাল কাজে
দুরবর্তী সহায়তা করতে পারেন। এক্ষেত্রে ই-ল্যান্স, টাস্কর‌্যাবিট TaskRabbit বা আপওয়ার্ক এ প্রচুর কাজ পাবেন।
১১.স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসাবে যেমন কোন ব্রাউজার এর এক্সটেনশন প্লাগিন,মোবাইল অ্যাপস (অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোন) তৈরী করে আয় করুন । এক্ষেত্রে কোডকেনিওন CodeCanyon , চুপা Chupa বা বিনপ্রেস BinPress এ আপনার কোডটি বিক্রয় করে আয় করতে পারেন।
১২. খুব সাধারণ কম্পিউটার জব যেমন ডাটা এন্ট্রি জব, ট্রান্সক্রাবিং কিংবা ভিজিটিং কার্ড তৈরী করে আয় করতে পারেন। এজন্য মেকানিক্যাল টার্ক Mechanical Turk ব্যবহার করতে পারেন।
১৩. সৃজনশীল কাজ যেমন লোগো ডিজাইন,ব্যানার ডিজাইন,ওয়েব ডিজাইন অন্যান্য মার্কেটিং এর উপাদানগুলো তৈরী করে অনলাইনে আয় করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ৯৯ডিজাইন 99Designs , ক্রাউডস্প্রিং CrowdSpring , ডিজাইনক্রাউডের DesignCrowd মত সাইটগুলো থেকে আয় করা যায়।
১৪. আপনার কি ভাল কন্ঠ আছে। আপনার যদি ইংরেজীতে জড়তা না থেকে থাকে তবে উমানো, ভয়েসবানী VoiceBunny , ভয়েস১২৩ Voice123 ভয়েস আর্টিষ্ট হিসাবে কাজ করে আয় করতে পারেন।
১৫.অনেকেই আছেন যারা ভাল গান করেন। আপনি যদি ভাল গান করে থাকেন অ্যামাজন এমপিথ্রি, আইটিউন , প্যান্ডোরা,স্পটিফাই এর গান গুলো বিক্রয় করতে পারেন। এজন্য ডিস্ট্রোকিড DistroKid , টিউনকোর Tunecore, লাউডার এফএম loudr.fm বা সিডিবেবির CDBaby সাহায্য নিতে পারেন। আপনি চাইলে সরাসরি আপনার অডিও ফাইল গুলো অডিও জংগল AudioJungle, পন্ড৫ Pond5 বিক্রয় করতে পারেন।১৬. অ্যামাজন Amazon বা অন্যান্য অনলাইন স্টোরের অ্যাফিলিয়েটর হিসাবে অনেক ভাল আয় করা সম্ভব। এক্ষেত্রে ভিজিলিংক Vigilink, শেয়ারএসেল ShareASale, কমিশন জাংশন CJ বা লিংক শেয়ার LinkShare এর মত সাইটগুলো অনেকভাল কাজ করে।
১৭. অনলাইনে টিউশন এর মাধ্যমে আয় করা সম্ভব। যেখানে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া,ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করার কাজ পাওয়া যায়।টিউটর ডট কম Tutor.com, ইন্টাএডু InstaEdu, টিউটোরিয়াল ভিসা TutorVista এর মত সাইটে খুব সহজেই অনলাইন শিক্ষক হওয়ার আবেদন করে অনলাইনে টিউশন করতে পারেন।
১৮. বিদেশীদের জন্য বাসা ভাড়া দিয়েও আয় করা যায়। আপনার ঘরে যদি খালি জায়গা থাকে তাহলে আপনার কি কি জিনিসপত্র আছে আজই লিষ্ট তৈরী করে ফেলুন। এয়ারবিএনবি Airbnb কুসসার্ফিং Couchsurfing আপনাকে সাহায্য্ করবে।
১৯.আপনি কি ফটোগ্রাফি করেন,আপনার ফটোগ্রাফি যদি ভাল হয় তবে ক্রিয়েটিভ মার্কেট Creative Market ,ফটোদুন PhotoDune, আইস্টকফটো iStockPhoto , ইমেজ এম্বেডেড ImgEmbed এ আপনার তোলা ছবি গুলো বিক্রয় করতে পারেন।২০. পুরোনো অব্যবহৃত জিনিসপত্র,শিশুদের খেলনা, দুর্লভ বই বা অতি প্রাচীন বা শখের বস্তুগুলো খুব সহজে বিক্রয় করতে পারেন ইবে, ক্রেগলিষ্ট,বিক্রয় ডট কম, কিংবা সেলবাজার এর মত সাইটে বিক্রয় করতে পারেন।
২১. আপনি একজন ওয়েবসাইট ব্যবহার কারী হিসাবেও আয় করতে পারেন। যে কোন ওয়েবসাইট টেষ্ট করুন, সুন্দর রিভিউ লিখুন একজন ব্যবহারকারী হিসাবে সাইটের সুবিধা অসুবিধাগুলো লিখে আয় করুন। ইউজারটেস্টার UserTesting সাহটের সাহায্যে আয করুন।
২২.আপনি হয়ত বিভিন্ন সময় আপনার বন্ধু বান্ধবদের টেকনোলজির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাহায্য করেছেন। তাহলে অনলাইনে কেন নয় ? স্কাইপে স্ক্রিন শেয়ার, বা গুগল ক্রোমের দুরবর্তী স্ক্রিন শেয়ারের মাধ্যমে টেকনোলোজি সাপোর্ট দিয়ে খুব সহজে আয় করতে পারেন।
২৩.ফিভার Fiverr ও পিপলস পার আওয়ার PeoplePerHour এ অ্যাকাউন্ট করুন । এখানে সারা বিশ্বের অনেক বায়াররা বিভিন্ন ধরনের কাজ দিয়ে থাকে। এখানে অনুবাদের কাজ থেকে শুরু করে গ্রাফিক্স ডিজাইন এসইও এবং অন্যান্য কাজ পাওয়া যায়।
২৪.আপনি আপনার ওয়েবসাইট পুন বিক্রয় করেও আয় করতে পারেন। ফ্লিপপা Flippa , গো-ড্যাডি অকশন GoDaddy Auctions , সিডো Sedo ইত্যাদি সাইটে আপনি আপনার ওয়েবসাইট পুনরায় বিক্রয় করতে পারেন ।
২৫. সর্বশেষ আপনি অনলাইন ব্যতীত অফলাইনে যেসকল ব্যবসার কথা চিন্তা করতে পারেন সবই অনলাইনে প্রয়োগ করা সম্ভব।

Saturday, May 6, 2017

15 Gorgeous Places You Need to Visit Before They Fill Up With Tourists 


When we want to relax on vacation, many of us often just choose the most popular places where everyone already goes without much forethought. For some reason, we think to ourselves: "The more tourists, the better the place must be." But this is not always true. Out there around the world, there are large number of places akin to a real paradise on Earth, but which strangely have not yet become very popular among travellers.
We chose 15 utterly magical places where you will be able to get away from the fuss and bustle of the crowds and really soak up the tranquillity.

Koh Rong, Cambodia


If you want a break from civilization, then you definitely need to visit the island of Koh Rong. No skyscrapers, noise or cars here. There’s only silence, some peaceful fishing villages, and unspoiled nature. Koh Rong is sometimes described as "What Thailand was like 20 years ago."

Ambergris Caye, Belize



 © (с)Scott E. Allen  
The island of Ambergris Caye has a rich history. At various times, Indian Mayans, whale hunters and buccaneers have all lived there. Ambergris Caye today attracts divers from all around the world — it’s located near the Belize Barrier Reef, which is the second longest reef in the world.

Apulia, Italy


 A vacation in Apulia will certainly be memorable: the azure sea, the red earth, golden sunsets, and most importantly, very hospitable locals. Besides lying on the beach, there are many places of interest which you can visit: Bari castle, the Santa Croce basilica, and the archaeological museum of Rignano Garganico.


Bangladesh


Bangladesh is a strikingly beautiful land with a diverse culture and a rich history. Tourism is not a particularly well-developed sector of the economy here, although there are many places of interest: Maharaj mansions, the world’s largest mangrove coast, and the planet’s longest beach.

Busan, South Korea


While the hordes of tourists still head for Seoul, you’d better visit the second biggest South Korean city, Busan. It often gets called "the summer capital of Korea" because of its many beaches. Moreover, Busan is famous for its art museum, open bird sanctuary and a fish market.


Jose Ignacio, Uruguay


Just 300 people live in Jose Ignacio, but in winter (that is, during the South American summer), this city is clogged up with Latin American superstars, such as Shakira. That’s why you can find such things as luxury hotels and fashionable restaurants there. Jose Ignacio is the perfect place for people who have the means to enjoy a bit of luxury but can’t find the privacy they crave.

Kep, Cambodia


Beginning 1908, Kep was the favourite destination of the French elite living in Cambodia. It was famous for its fantastic restaurants and expensive villas. But after years of civil war, the colonial Riviera was left in ruins. Despite this, nowadays Kep is a great place to relax.

Manila, Philippines


Manila is the second largest city in the Philippines. It boasts utterly delicious and cheap food. A three-course dinner in Manila will cost you only $18, whereas in pretty much any other big city you’ll get the same thing for $95. The city also has many attractions: old churches, beautiful palaces, monasteries and museums.


Myanmar


Myanmar, also known as Burma, is a small country in Southeast Asia. The word “Myanmar“ means ”fast", and there’s a good reason for this: Only around 300,000 people visited the country in 2010, but three years later, that number had ballooned to over 2 million tourists. Tourism in the country is developing rapidly, but there is still time to go ride a boat on the isolated Inle Lake and catch the sunset reflecting off the Shwedagon Paya.


Phu Quoc, Vietnam



Phu Quoc is quite simply paradise. The island is surrounded by snow-white sand beaches, water as pure as crystal, and emerald green jungles. Here you can go diving, canoeing and visiting the various farms. A vacation on Phu Quoc offers the chance to experience a tremendous feeling of unity with nature.

Roatan, Honduras


Cruise liners started to visit the coast of Roatan only in 2005. Truth be told, this is probably because Honduras is not one of the safest places in the world. Roatan began to gain popularity with the appearance of divers, who come to the island to see the Mesoamerican Barrier Reef. On the island itself, you have the chance to go fishing, and you can also explore the Cayos Cochinos archipelago.


Salinas Grandes, Argentina


This salt desert is in fact a large salt marsh, 250 km long and 100 km wide. When it rains, it turns into a giant mirror. Although many railways and roads run through Salinas Grandes, it is still considered inaccessible and therefore not so popular among tourists.

Sofia, Bulgaria


Sofia is one of the cheapest tourist cities out there, at least compared with other European capitals. The primary city of Bulgaria has a rich store of breathtaking historic architecture that is guaranteed to astound you. According to some experts, Sofia will not stay in the background of the tourist industry for much longer — very soon it’s going to be discovered by more and more people, and will get inundated with tourists.

York, Great Britain


York is one of the most beautiful and ancient cities in England. It has everything that there should be in an English town — pubs, tea houses, coffee shops, churches, old buildings, and so on. One of the main attractions of York is the truly magnificent cathedral (it is already more than 500 years old). The chances are that more and more tourists will be rushing to York in the next few years, so hurry up and enjoy it in peace!


Zambia and Zimbabwe

Yes, we know — this stunningly beautiful place similar to Victoria Falls is already known to all. But it’s located close to Hwange National Park, which hardly anyone knows about. The park is enormous — 14,600 sq. km. It boasts lakes, rare plants and wild African animals and birds. Hwange is proud of its elephants (there are more than 30,000 of them there).

Sunday, April 30, 2017

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা: কিছু পরামর্শ

জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা: কিছু পরামর্শ



সহপাঠীদের সঙ্গে লেখিকাসহপাঠীদের সঙ্গে লেখিকাদেশের বাইরে যারা পড়তে আসবেন তাদের সব্যসাচী হতে হবে এটা মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষার দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি আছে। প্রস্তুতির কোথাও ত্রুটি হলে সবকিছু কেঁচে গণ্ডূষ। তখন উচ্চশিক্ষা আশীর্বাদ না হয়ে বিপদও হতে পারে। তাই আগে থেকেই জেনেশুনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে অগ্রসর হওয়া ভালো।
জার্মানিতে খুব ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিউশন ফি নেই বলে এখানে অনেক দেশ থেকে প্রচুর শিক্ষার্থী পড়তে আসেন। সেটা যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপের অন্যান্য দেশ, মধ্যপ্রাচ্য আর এশিয়াতো আছেই। তবে জার্মানিতে শুধু কেবল উচ্চশিক্ষা মূল লক্ষ্য হলে শুধু ইংরেজি দিয়ে চালিয়ে নেওয়া যাবে। কিন্তু প্রফেশনাল চাকরি অসম্ভব। জার্মানিকে বলা হয় ল্যান্ড অব টেকনোলজি। এখানে যাদের কম্পিউটার সায়েন্স, প্রোগ্রামিং, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে প্যাশন আছে তাদের সম্ভাবনা খুব ভালো। সে ক্ষেত্রেও ভাষার দক্ষতা বি২ বা সি১ লাগে।
আমাদের পাশের দেশ ভারতে ছেলেমেয়েদের স্কুল থেকে বিদেশি ভাষা শেখানো হয়। তাদের একটা কম্পিউটার সায়েন্সের ব্যাচেলর শিক্ষার্থী অনেক আগে থেকে জার্মানি আসার পরিকল্পনা মাথায় রেখে প্রতি সেমিস্টারে জার্মান ভাষার কিছু ক্রেডিট করেন। ব্যাচেলর পড়া চলাকালেই অনলাইনে জার্মানির চাকরির বাজার বা ইন্টার্নশিপের খোঁজ নিজেকে সেই মাপকাঠি বা যোগ্যতা অনুযায়ী প্রস্তুত করেন। তাই সরাসরি ব্যাচেলরের পর ইন্টার্নশিপ শেষ করে চাকরির সুযোগও পেয়ে যান মাস্টার্স না করেই। জার্মান অনেক ছেলেমেয়ে আউসবিল্ডুং করে চাকরিতে যোগ দেয়। আমরা যাকে আমাদের দেশে বলি ডিপ্লোমা। এদের অনেক লোক আইসবিন্ডুং করে যাদের উচ্চশিক্ষা বা গবেষণার মতো এত মেধা নেই। দেশে যেমন গবেষক লাগে তেমনি শ্রমিকও লাগে। শতভাগ গবেষক বা শ্রমিক দিয়ে দেশ চালানো যায় না। তাই বিদেশে ডিপ্লোমা পড়ারও সুযোগ আছে। এখানে এক বছর ফ্রিতে কোনো বাসায় বেবিসিটার বা বাচ্চা দেখাশোনা করে মেয়েদের নার্সিংয়ে ডিপ্লোমা পড়ার সুযোগ আছে। নেপালের অনেক মেয়ে ভাষা শিখে এসে এখানে নার্সিংয়ে ডিপ্লোমা পড়ছেন। অন্য দিকে মাস্টার্সে যারা আসেন ব্যাচেলর থেকে, আগেই বি২ হয়ে গেলে এখানে এসে পার্টটাইম চাকরি পেতেও সুবিধা।
ক্যানটিনে শিক্ষার্থীরাক্যানটিনে শিক্ষার্থীরাকিছু সাবজেক্টে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেলেও চাকরির সম্ভাবনা জার্মানিতে একেবারেই নেই, ভাষা না জানলে। যেমন সাংবাদিকতার কথা যদি বলি, খুব ভালো সুযোগ পড়াশোনার। কিন্তু সংবাদমাধ্যম হলো ভাষার খেলা, সেখানে ইংরেজি দিয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করা গেলেও চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্র খুব সীমিত। একই রকম আর্কিটেক্ট বা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের বেলায়। ইংরেজি ও জিআরই দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ পাওয়া গেলেও জার্মানিতে জার্মান লাগবে। আর যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্যে অনেক টিউশন ফি। সে ক্ষেত্রে স্কলারশিপ আগেই ব্যবস্থা করতে হয়। কেননা স্কলারশিপ খুব সীমিত। জিআরই বা আইইএলটিএস স্কোর মোটিভেশন প্রমাণে পাবলিকেশন লাগে স্কলারশিপ পেতে। তাই উচ্চশিক্ষা বিনা বেতনে জার্মানিতে হলে ভাষা জানা থাকলে অনেক দার উন্মোচন হয়ে যায়।
মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের ছেলেমেয়েদের জন্য বলব খুব ভালো করে জানার সুযোগ আছে। পরিবেশ নিয়ে জানতে হলে ইউরোপের গবেষণা রিসার্চ এখনো বিশ্ব সেরা। এখানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদেরও সারা দিন মেশিন নিয়ে বসে বসে শিখতে হয়। বিজনেসের ছেলেমেয়েদের ব্যাচেলর পড়ার সময় বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপ করতে হয়। যাতে বাস্তবজীবনে প্রয়োগের দক্ষতা ও যোগ্যতা গড়ে ওঠে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে গাছ নিয়ে মাঠে ল্যাবে এক্সপেরিমেন্ট চালাতে হয় হাতে কলমে শিক্ষার জন্য। ইউরোপের ইউনিভার্সিটিগুলোতে পড়াশোনা অনেক শেখার সুযোগ আছে, সেটা পরবর্তী জীবনে কাজে লাগানো যায়। তবে এখানে ভাষা ছাড়া চাকরির সম্ভাবনা খুব কম। আবার যারা ব্যাচেলর করতে আসেন, ভাষা শেখার পর তাদের চাকরি বা ক্যারিয়ারে খুব ভালো করার সুযোগ আছে। কিন্তু শুরুটা তাদেরও খুব সহজ না। তাই উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের ভাষা শেখা ও প্রস্তুতি শুরু করা উচিত স্কুল থেকে।
চাকরি বা পড়াশোনায় এখানে প্রতিযোগিতা সব দেশের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে। যাদের আগে থেকে অনেক ভালো ব্যাকগ্রাউন্ড বা বেসিক ভালো। যেমন চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র এমনকি ইউরোপের অন্য দেশ থেকেও ছেলেমেয়েরা জার্মানিতে আসে। আবার জার্মানি থেকে অন্য দেশে যারা যায় তাদেরও অন্য ভাষার পরীক্ষা দিতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র হলে জিআরই বা ইউরোপের ফ্রান্স বা ব্রিটেন হলে ফ্রেঞ্চ ও ইংলিশ লাগে। কেননা এখন গ্লোবালাইজেশনের যুগ। আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য উচ্চশিক্ষা গবেষণা সবকিছুতে ভাষার আদানপ্রদান খুব জরুরি। কেননা একা একটা দেশ তার নিজের ভাষা নিয়ে আগাতে পারে না। ভাষা শেখা শুধু আমাদের দেশের জন্য নয় সারা বিশ্বের মানুষের জন্য চ্যালেঞ্জ। ব্রিটেনে স্কুলে শিশুদের ফ্রেঞ্চ ও জার্মান ভাষা শেখানো হয়। ভারতে বেশির ভাগ মানুষ কমপক্ষে দুই-তিনটি ভাষা জানে। কারণ দেশে ১০০ টির মতো ভাষা। এক প্রদেশের মানুষ অন্য প্রদেশের মানুষের সঙ্গে হিন্দি আর ইংরেজিতে কথা বলে।
প্রবাস জীবনে আরেকটি দিক হলো, প্রবাসে পড়াশোনা ও জীবন দেশের মতো নয়। রান্না, কাটাকাটি বা বাসন ধুয়ে ঘরদোর পরিষ্কার করে দেওয়ার জন্য কোনো কাজের বুয়া নেই। সব নিজেকেই করতে হয়। তা সে কোনো সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মানো রাজকন্যা হোক বা কোনো মিলিয়নিয়ারের মেয়ে হোক। ইউনিভার্সিটিতে পড়তে হলে সে ডর্মে থাকুক বা বাড়িতেই থাকুক—রান্না, বাজার, ঘরদোর, বাথরুম, বেসিন, রান্নাঘর, ময়লার বালতি পরিষ্কার সবকিছু নিজেরই করতে হয়।
আর রাস্তার মোড়ে মোড়ে আমাদের দেশের মতো রেস্টুরেন্ট পাওয়া যায় না, যেখানে ক্লাসের ফাঁকে একটু খেয়ে নেওয়া যায়। রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ভেবে নিতে হয় সকালে কি খেয়ে ক্লাসে যাব আর সে খাওয়াটা ঘরে আছে কিনা। ঘুম ভেঙে ওভেনে বা টোস্টারে ব্রেড ঢুকিয়ে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিজের তৈরি হয়ে নিতে হয়। প্রবাসে সবকিছু ঠিক সময় মতো করতে পারা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এখানে বাস, ট্রেন সব ঘড়ি ধরে চলে। এক মিনিট এদিক-ওদিক হওয়ার উপায় নেই।
ডরমিটরিডরমিটরিআবার সারা দিনের জন্য বাইরে গেলে বা ক্লাসে থাকলে খাওয়ার, কফির মগ, পানির বোতল সব ব্যাগে ভরে নিতে হয়। কেননা চাইলেই রাস্তার পাশের চায়ের দোকানে চা খেয়ে নেওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের এত বড় ক্যাম্পাসে একটি মাত্র ক্যানটিন রয়েছে। সেখানে দুপুরে খাবার এবং চা কফির ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সে খাবার পয়সা দিয়ে কিনতে হয়। আমি খুব খিদে নিয়েও পুরোটা খেতে পারিনি কোনো দিন এই এক বছরে।
আর ক্যাম্পাসে ওয়ান টাইম কাপ বা মগ অতিরিক্ত বর্জ্য তৈরি করে বলে একে খুব নিরুৎসাহিত করা হয়। তাই সবাই ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার আগে একটা ব্যাগপ্যাক পিঠে ঝুলিয়ে তাতে পানির বোতল, কফির মগ, জুস, চকলেট এবং সঙ্গে দুপুরের খাওয়ার ভরে নিয়ে বেরিয়ে পরেন। ক্লাস, লাইব্রেরি, পড়াশোনা, পার্টটাইম কাজ—সব করে ঘরে এসে আবার চলে পরদিনের প্রস্তুতি। এখানে টানা চার ঘণ্টা করে ক্লাস। দিনে আট ঘণ্টা বা তার বেশিও ক্লাস করতে হতে পারে। যদি পাশাপাশি ভাষা শেখা বা অন্য কোনো ক্লাস থাকে। শহর-বাজার, স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোথাও রিকশা নেই। ছেলে মেয়ে, ছোট বড় সবাই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়েন আর বাসস্টপ বা ট্রেন স্টেশনের পাশে সাইকেল রাখার ভালো ব্যবস্থা থাকে সব জায়গাতে।
আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ঘরগুলোতে ইচ্ছে মতো ফার্নিচার, কার্পেট, সোফা বা নানা রকম পেইন্টিং দিয়ে সাজানোর সুযোগ আছে। কিন্তু ঘরে থাকার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়ার পর আবার ঘর ধুয়ে মুছে রং করে দিয়ে যেতে হয়। আমার জার্মানিতে গত অক্টোবরে এক বছর হলো। ডরমিটরিতে আমার ঘরের মেয়াদ শেষ হলে আমাকেও ঘরে রং করে দিতে হয়েছে। বিদেশে বাসা খুঁজে পাওয়া—সে আরেক বিপদ। আমি খুব চিন্তায় ছিলাম কীভাবে সব করব। একা ঘরের ফার্নিচার সাত তলা-আট তলায় টেনে তোলা তো আর চাট্টিখানি কথা নয়। এখানে বন্ধুরা খুব সাহায্য করে। আমার ঘরের রং করা থেকে শুরু করে সবকিছুতেই আমাকে তারা বারবার জিজ্ঞেস করেছে কি সাহায্য লাগবে। একজন বন্ধু তো একা একা নিচতলা থেকে ছয়তলা পর্যন্ত একটা ছোট ফ্রিজ টেনে তুলে নিয়ে পৌঁছে দিয়ে গেল। জার্মান মেয়েরা আমাকে বাসার জন্য অ্যাপ্লিকেশন লিখতে ও বাসা খুঁজে পেতে অনেক সাহায্য করেছে।
এখানকার ছেলেমেয়েগুলো দেখতে খুব শুকনো কাঠি কাঠি ও রোগা-পাতলা দেখা গেলেও এদের কর্মক্ষমতা যে অনেক বেশি, সেটা পার্টটাইম কাজ করতে গেলেই টের পাওয়া যায়। প্রথম দিকে খুব কষ্ট হতো। এখন আস্তে আস্তে শিখে নিয়েছি অনেকটা এই এক বছরে। আর এখানে সবচেয়ে বেশি স্বাধীনতা রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো সেটা দিনে কি মাঝ রাতে। প্রকৃতির রং-রূপ ও খুব ভালো করে উপলব্ধি করা যায় অদ্ভুত এক ভাষা রয়েছে এর। যেটা শহরের কোলাহলে পাওয়া যায় না।
এত দায়িত্ব আর ব্যস্ততা হয়তো শুনতে খুব কঠিন মনে হচ্ছে। কিন্তু এগুলো আমাকে নিজের দায়িত্ব নিতে শিখিয়েছে। জার্মানিতে পড়তে এসে আমার মনে হয়েছে এখানে মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। ধনী-গরিব সবাই সমান, সাদার ওপরে কালো বা কালোর ওপরে সাদার কোনো বৈষম্য নেই।
ডরমিটরিতে সহপাঠীর সঙ্গে লেখিকাডরমিটরিতে সহপাঠীর সঙ্গে লেখিকাউচ্চশিক্ষা পরিকল্পনা যে দেশেই হোক, দেশে ফিরে আসা আর সেখানে চাকরি খোঁজা দুই রকম প্রস্তুতি লাগে। সুতরাং উচ্চশিক্ষা শেষ করে চাকরির প্রত্যাশা থাকলে প্রস্তুতি নিতে হবে স্কুল থেকে। সেটা ইউরোপ বা আমেরিকা যেটাই হোক। আইইএলটিএসে হুট করে ৭ পাওয়া যায় না বা জিআরই-এর কাঙ্ক্ষিত স্কোর পেতে লম্বা সময় প্রস্তুতি দরকার। তাহলে জেনে বুঝে হোক প্রবাসে সফল উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার।
এ বিষয়ে বিস্তারত জানতে ভিজিট করুন জার্মান প্রবাসে ওয়েবসাইট: <www.germanprobashe.com>
ফেসবুক <www.facebook.com/groups/BSAAG>
*রাশা বিনতে মহিউদ্দীন: স্টুডেন্ট অব মাস্টার্স ইন এনভায়রনমেন্ট প্রোটেকশন অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল ফুড প্রডাকশন, ইউনিভার্সিটি অব হোয়েনহেইম, স্টুটগার্ট, জার্মানি।


Thursday, November 17, 2016



পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী দেশ এবং ইউরোপের অন্যতম ধনী দেশ ডেনমার্ক। প্রাকৃতিক নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য্যের পাশাপাশি উন্নত নাগরিক জীবনের জন্য ডেনমার্ক সবার কাছে পরিচিত। ডেনমার্কের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রচুর পরিমাণে দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন।
উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা, সৌহার্দ্য পূর্ণ সামাজিক পরিবেশের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ ডেনমার্কে অভিবাসী হতে আগ্রহী। বাংলাদেশ থেকেও অনেকে ডেনমার্কে অভিবাসী হওয়ার জন্য আগ্রহী। ডেনমার্কের গ্রীণকার্ড পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তুু নিম্নে আলোচনা করা হলো।
পয়েন্ট তালিকা:
ডেনমার্কের গ্রীণকার্ড পাওয়ার জন্য একজন আবেদনকারীকে কমপক্ষে ১০০ পয়েন্ট অর্জন করতে হবে। শিক্ষা, ভাষা যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বয়স ও অন্যান্য বিষয়ের উপর বিভিন্ন পয়েন্ট বরাদ্দ আছে। নিচে পয়েন্ট তালিকাটি দেওয়া হলো।
ব্যাচেলর ডিগ্রী– ৩০ পয়েন্ট
ব্যাচেলর ডিগ্রী+১ বছরের মাস্টার্স– ৫০পয়েন্ট
মাস্টার্স– ৬০ পয়েন্ট
পিএইচডি– ৮০ পয়েন্ট
আইইএলটিএস পয়েন্ট ৩.০০– ৫ পয়েন্ট
আইইএলটিএস পয়েন্ট ৩.৫০ থেকে ৪.৫০– ১০ পয়েন্ট
আইইএলটিএস পয়েন্ট ৫.০০ থেকে ৬.০০– ১৫ পয়েন্ট
আইইএলটিএস পয়েন্ট ৬.৫ হলে-২০ পয়েন্ট
১ থেকে ২ বছরের চাকুরীর অভিজ্ঞতা– ১০ পয়েন্ট
৩ থেকে ৫ বছরের চাকুরীর অভিজ্ঞতা– ১৫ পয়েন্ট
৩৫ বছর থেকে ৪০ বছর বয়সের ক্ষেত্রে– ১০ পয়েন্ট
৩৪ বছর বা তার নীচের বয়সের ক্ষেত্রে– ১৫ পয়েন্ট
১ বছরের শিক্ষা গ্রহণ EU/EEA *- তে– ৫ পয়েন্ট
৩ বছরের শিক্ষা গ্রহণ EU/EEA *– তে– ১০ পয়েন্ট
অথবা, ১ বছরের বৈধ বয়স EU/EEA *-তে (ধারাবাহিকভাবে ১২ মাস)– ৫ পয়েন্ট
২ বছরের বৈধ বসবাস ও কাজের অভিজ্ঞতা EU/EEA *– তে (ধারবাহিকভাবে ২ বছর)– ১০পয়েন্ট
নোট: EU– বলতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোকে বুঝানো হয়েছে। যেমন – অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, সাইপ্রাস, গ্রীস, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরী, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, লুক্সেমবার্গ, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, ইংল্যান্ড, রোমানিয়া, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, মালটা, এস্টোনিয়া।
EEA– বলতে ইউরোপিয়ান ইকোনোমিক এরিয়ার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোকে বুঝানো হয়েছ। যেমন – অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, সাইপ্রাস, গ্রীস, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, হাঙ্গেরী, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লাটভিয়া, লিথুনিয়া, লুক্সেমবার্গ, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, ইংল্যান্ড, রোমানিয়া, পর্তুগাল, পোল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, মালটা, এস্টোনিয়া, নরওয়ে, আইসল্যান্ড।
ডেনমার্কের গ্রীণকার্ডের জন্য নিম্নোক্ত পেশার লোকজন অগ্রাধিকার পেয়ে থাক:
১.একাউন্টেন্ট
২.এসোসিয়েট প্রফেসর
৩.বিল্ডিং ইঞ্জিনিয়ার
৪.কেমিস্ট
৫.কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ার
৬.চিকিৎসক
৭.দন্ত চিকিৎসক
৮.ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ার
৯.ফিন্যান্সিয়াল কন্ট্রোলার
১০.আইনজীবী
১১.মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার
১২.গানের শিক্ষক
১৩.ডাটাবেজ ডেভেলপার
১৪.আইটি কনসালটেন্ট
১৫.নেটওয়ার্ক কনসালটেন্ট
১৬.সফটওয়্যার ডেভেলপার
১৭.সিষ্টেম ডেভেলপার
১৮.প্রোডাকশন ম্যানেজার
১৯.সেলস ম্যানেজার
আবেদন প্রক্রিয়া:
যদি কেউ ডেনমার্কের গ্রীণকার্ডের জন্য যোগ্য মনে করে তবে তাকে নির্দিষ্ট আবেদন পত্রে আবেদন করতে হবে। এজন্য ঢাকাস্থ ডেনমার্ক দূতাবাসে যোগাযোগ করতে হবে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া শেষ করে ভিসা/গ্রীণকার্ড পেতে আবেদন করার পর থেকে ৪ থেকে ৫ মাস পর্যন্ত সময় লাগে। আবেদন রিফিউজ হলে আপিল করার সুযোগ আছে। ডেনমার্কের ভিসা/গ্রীণকার্ড পাওয়ার জন্য কোথাও কোন ধরনের ইন্টারভিউ দেওয়ার প্রয়োজন হয় না।
ঢাকাস্থ ডেনমার্ক দূতাবাসের ঠিকানা:
রয়েল ড্যানিশ এ্যাম্বাসী
হাউজ #১, রোড #৫১, গুলশান মডেল টাউন, ঢাকা– ১২১২।
ফোন: ০০৮৮০ (২) ৮৮২ ১৭৯৯
ফ্যাক্স: ০০৮৮০ (২) ৮৮২ ৩৬৫৮
ই-মেইল: dandhaka@citecheo.net
ওয়েব: http://bangladesh.um.dk/
খোলা ও বন্ধের সময়:
রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮.০০ টা থেকে বিকাল ৪.০০ টা পর্যন্ত খোলা।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
.১০ কপি রঙিন ছবি।
.সকল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র।
.কাজের অভিজ্ঞতার দলিলাদি।
.বিভিন্ন প্রশিক্ষণের সনদ।
.পাসপোর্টের ফটোকপি।
ইংরেজী ভাষার উপর কোন কোর্স করা থাকলে তার সার্টিফিকেট (ন্যূনতম ১ বছরের কোর্স)।বিবিএ, এমবিএ অথবা ইংরেজী ভার্সন বা মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য ইংরেজী কোর্সের প্রয়োজন নেই।
এছাড়া এমন কর্মক্ষেত্র যেখানে ইংরেজী ভাষায় কথা বলার সুযোগ ছিল সেসব কর্মক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতার সনদপত্র।আইইএলটিএস করাদের পয়েন্ট ৬.৫ হলে ইংরেজী কোর্সের সার্টিফিকেট বা ইংরেজী ভাষায় কথা বলা কর্মক্ষেত্রের সনদপত্রের প্রয়োজন নেই।সেক্ষেত্রে আইইএলটিএস এর স্কোর ৬.৫ এর সনদপত্র/প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হবে।